ত্বক ও চুলের যত্নে টি ট্রি অয়েলের অসাধারণ কিছু ব্যবহার

ত্বক এবং চুলের যত্নে বিভিন্ন ধরণের অয়েলের গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা কমবেশী সবাই জানি। টি ট্রি অয়েল সৌন্দর্যের জগতে তেমনই একটি নাম। আর এই অয়েলের গুণ সম্পর্কেও আমাদের অজানা নয়। টি ট্রি অয়েলকে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টি ফাঙ্গাল এবং ন্যাচারাল অ্যান্টি সেফটিক বলা হয়। স্কিন এবং হেয়ার কেয়ারে এই অয়েলটি অনেক বেশি উপকারী এবং কার্যকরী। চলুন জেনে নিই, স্কিন এবং হেয়ার কেয়ারে টি ট্রি অয়েলের কিছু ব্যবহার সম্পর্কে।

ত্বকের যত্নে টি ট্রি অয়েল :

(১) ড্রাই স্কিন। যারা  এই ড্রাই স্কিনের অধিকারী,  তাদের তো স্কিন রুক্ষ  হয়ে যাওয়া একটা সাধারন সমস্যা। রাতে মুখ ধুয়ে নিয়ে রাতের ময়েশ্চারাইজারের সাথে ৩-৪ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল যোগ করুন এবং এটা পুরো মুখে লাগিয়ে শুয়ে পড়ুন। সকালে উঠে সফট সফট স্কিন পেয়ে যাবেন।

(২) ব্রণ সারাতে টি ট্রি অয়েল অনেক পরিচিত।  ব্রণ সারিয়ে তুলতে, একটি কটন প্যাড নরমাল পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে, এতে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল নিন। এই অয়েলটা আপনার ব্রণের এড়িয়াতে লাগিয়ে নিন। ৪০ মিনিট পর মুখ ফেইসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে রেগুলার ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। এভাবে কয়েকদিন চালিয়ে যান।

(৩) স্কিনের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে টি ট্রি অয়েল অনেক উপকারী। এজন্যেএকটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ বেসন, হাফ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল, হাফ চা চামচ মধু এবং ২-৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল নিয়ে মিশিয়ে নিন। এই মাস্কটি পুরো মুখে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

(৪) নখের ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূর করতে এবং নখের ড্যামেজ দূর করতে,একটি বাটিতে নরমাল পানি নিয়ে এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল যোগ করুন। এই মিশ্রণে আপনার হাতের নখগুলো ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।

(৫) যেকোনো ধরণের স্কিন ইরিটেশনে টি ট্রি অয়েল বেশ কাজে দেয়।  একটু অ্যালোভেরা জেল নিয়ে এর মধ্যে কয়েক ড্রপ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। যেকোনো স্কিন ইরিটেশন, র‍্যাশ এড়িয়ায় মিশ্রণটি ম্যাসাজ করুন।

(৬) অয়েলি স্কিনের জন্যে বেশ ভালো ক্লিঞ্জার হিসেবে কাজ করে টি ট্রি অয়েল। ১ চা চামচ মধুর সাথে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিয়ে পুরো ফেইস-এ ম্যাসাজ করুন। ১ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি ব্রণের জন্যেও বেশ ভালো কাজ করে।

(৭) শরীরকে এক্সট্রা ফ্রেশ এবং ঝরঝরে অনুভুতি দিতে আপনার শাওয়ার জেল এর সাথে ১-২ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন এবং গোসল সেরে নিন। ব্যস।

(৮) স্কিন ব্লেমিশ থাকলে, তাকে ছুটি দিয়ে দিন এখনই। ৪-৫ ফোঁটা লেবুর রসে ২-৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিক্স করে এটা ব্লেমিশ এড়িয়াতে লাগিয়ে নিন। দিনে ১ বার এই রেমেডি ফলো করুন।

(৯) এই গরমে ফেসিয়াল মিস্ট অনেক কাজে দেয়। ফেসিয়াল মিস্ট মুখে একটা ফ্রেশ ফিলিং এনে দেয়। ফেসিয়াল মিস্ট বানাতে, একটি স্প্রে বোতলে গোলাপজল ভরে নিন। এর মধ্যে ৬-৭ ড্রপ টি ট্রি অয়েল যোগ করুন। বোতলটি ঝাকিয়ে মিশ্রণটি মিশিয়ে নিন। ব্যস, আপনার ফেসিয়াল মিস্ট রেডি।

(১০) স্কিনের দাগ-ছোপ দূর করতে,একটি বাটিতে ১ চা চামচ মুলতানি মাটি, ১ চা চামচ মধু এবং ৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল নিয়ে মিক্স করে পুরো ফেস এ লাগান। ১৫-২০ মিনিট বাদে মাস্কটি ধুয়ে ফেলুন।

 চুলের যত্নে টি ট্রি অয়েল :

(১) চুলে উকুন আমাদের জন্যে একটি বড় সমস্যা। একবার এই উকুন ছড়ালে সহজে যেতেই চায় না এবং বংশ বৃদ্ধি করতেই থাকে। উকুন তাড়াতে টি ট্রি অয়েল বেশ কাজের। ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেলের সাথে ৪-৫ ড্রপ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। এটা পুরো চুলে ম্যাসাজ করে রাতে শুয়ে পড়ুন। পরদিন ভালোমতো শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে ২ দিন এটি ফলো করুন।

(২) খুশকির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে শ্যাম্পু করার সময় শ্যাম্পুর সাথে  কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল যোগ করুন। হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে স্কাল্পে হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।

(৩) হেয়ার গ্রোথ বৃদ্ধি এবং চুলকে স্ট্রং বানাতে, টেবিল চামচ কুসুম গরম অলিভ অয়েলের সাথে ৫-৬ ড্রপ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। এই  তেলটি রাতে মাথার স্কাল্পে ম্যাসাজ করুন। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে নিন। এই অয়েলে থাকা অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল প্রোপার্টিজ স্কাল্পের যে  কোনো ইনফেকশন দূর করে স্কাল্পের হেয়ার গ্রোথকে প্রোমোট করতে সাহায্য করবে।

এই তো জেনে নিলেন, স্কিন এবং হেয়ার কেয়ারে টি ট্রি অয়েলের অসাধারণ কিছু ব্যবহার সম্পর্কে। ভালো থাকুন।