দারুণ উপকারী টি-ট্রি অয়েলের ১৫টি ব্যবহার

সৌন্দর্যের প্রতি মনোযোগী নারীরাই জানেন টি-ট্রি অয়েল ইদানিং কতোটা জনপ্রিয় হয়ে পড়েছে। ফেস ওয়াশ থেকে শুরু করে বডি লোশন পর্যন্ত সবকিছুতেই টি ট্রি অয়েল ব্যবহার হয়। এর কারণ হলো টি-ট্রি অয়েলের উপকারিতা অনেক। সৌন্দর্যচর্চায় বিভিন্নভাবে টি-ট্রি অয়েল ব্যবহার করা যায়। এর বিশেষ কিছু গুণাবলির কারণে ঘরোয়া টুকিটাকি কাজেও একে ব্যবহার করা যায় সহজেই। জেনে নিন টি-ট্রি অয়েলের দারুণ কিছু ব্যবহার।

১) ত্বক পরিষ্কার করতে টি-ট্রি অয়েলের জুড়ি নেই। এটা একটা ন্যাচারাল অ্যান্টিসেপ্টিক। এ কারণে ব্রণের ওপরে টি-ট্রি অয়েল লাগিয়ে দিলে তা দ্রুত দূর হয়ে যায়।

২) উকুনের সমস্যা অনেককে পীড়া দেয়। এর জন্যও ব্যবহার করা যায় টি-ট্রি অয়েল। দেড় কাপ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার এবং এক টেবিল চামচ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে এই মিশ্রণ পরিষ্কার চুলে মেখে নিন। ২০ মিনিট এভাবে রেখে দিয়ে উকুনের মিহি চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। উকুন দূর হয়ে যাবে।

৩) কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্টের সাথে ১০ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ধোয়া কাপড় আগের চাইতে অনেক ফ্রেশ মনে হবে, পুরনো কাপড়ের গন্ধ দূর হয়ে যাবে।

৪) ঘরের স্যাঁতস্যাঁতে জায়গাগুলোতে অনেক সময়ে ছাতা পড়ে থাকে। এই ছাতা দূর করতে টি-ট্রি অয়েল ব্যবহার করতে পারবেন না বটে। তবে ছাতা বা শ্যাওলা দূর করে এরপর সেখানে টি-ট্রি অয়েলের একটি স্প্রে ব্যবহার করলে সেখানে আর কখনো ছাতা পড়বে না। এই স্প্রে তৈরি করতে টি-ট্রি অয়েল, ভিনেগার এবং পানি মিশিয়ে নিন।

৫) পোকামাকড় দূর করতে টি-ট্রি অয়েল ব্যবহার করে এই রিপেলেন্ট তৈরি করে নিতে পারেন।

৬) বাসায় ছোট বাচ্চা থাকলে কেমিকেল ক্লিনার ব্যবহার করাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে টি-ট্রি অয়েল ব্যবহার করেই একটা ন্যাচারাল ডিসইনফেকট্যান্ট তৈরি করে ফেলতে পারেন।

৭) অ্যাথলিট’স ফুট সমস্যার উপশমে ব্যবহার করতে পারেন টি-ট্রি অয়েল। পায়ের আঙ্গুলে চুলকানি হলে প্রতিদিন টি-ট্রি অয়েল ম্যাসাজ করে নিতে পারেন। টি-ট্রি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল। এ কারণে এটা পায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।

৮) পায়ের আরেকটা সমস্যা হলো নখে ফাঙ্গাস হওয়া। খুব বিব্রতকর এবং যন্ত্রণাদায়ক এই সমস্যা কমাতে কাজে আসতে পারে টি-ট্রি অয়েল। নখ থেকে দুর্গন্ধ আসা শুরু করলে এতে টি-ট্রি অয়েল দিতে পারেন। নিয়মিত ব্যবহারে নখ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৯) শীতে বেশীরভাগ মানুষের খুশকির সমস্যা দেখা দেয়। নিজের প্রিয় শ্যাম্পুতে ১০ ফোঁটা টি-ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন এই সমস্যা দূর করার জন্য।

১০) বিভিন্ন কারণে ত্বকে ব্যাথা পেয়ে কালশিটে পড়তে পারে। অলিভ অয়েলের সাথে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে কালশিটের ওপরে আলতো করে মাসাজ করুন। দ্রুত চলে যাবে।

১১) শীতকালে আরো একটা ব্যাপার সবার মাঝে দেখা যায়, তা হলো সর্দি। নাকমুখ দয়ে সারাক্ষণ সর্দি গড়াতে থাকাটা কি বিশ্রী বলুন তো! এর উপশমে কাজে আসতে পারে টি-ট্রি অয়েল। চার কাপ পানি ফুটিয়ে নিন, এতে যোগ করুন ১০ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল। এবার এই বাষ্পে নিঃশ্বাস নিন।

১২) অনেক ময়েশ্চারাইজার দিয়েও আপনার শুষ্ক ত্বক কোমল হচ্ছে না? আপনার প্রিয় লোশনে ১০ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে বোতলটা ঝাঁকিয়ে মিশিয়ে নিন। এটা ত্বকে আরাম দেবে। এছাড়াও আমন্ড তেলের সাথে টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

১৩) পোকামাকড়ের কামড় খাওয়াটা তো নিত্যদিনের ব্যাপার। এই জ্বলুনি আর চুলকানি থেকে রেহাই পেতে এক ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল সেখানে মেখে নিন। সাথে সাথে আরাম পাবেন।

১৪) অনেক সময়ে সারাদিন প্রচুর পরিশ্রম হলে শরীর ব্যথা করতে থাকে। শরীরকে আরাম দিতে বাথটাব পানি দিয়ে ভরে নিন, এই পানিতে দিয়ে দিন ১০ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল। এবার সেই বাথটাবে বসে রিল্যাক্স করে নিন।

১৫) অনেক সময়ে পুরনো কার্পেটে ড্যাম্প গন্ধ হয়ে যায়। এই গন্ধ দূর করতে এক কাপ বেকিং সোডায় ২০ ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিন। এটা কার্পেটে ছিটিয়ে দিন। ২০ মিনিট পর ভ্যাকুম ক্লিনার চালিয়ে পরিষ্কার করে নিন অথবা ঝেড়ে ফেলুন ভালো করে।

এছাড়াও টি-ট্রি অয়েলের আরও কিছু উপকারিতা হলো-

–   কনজাংটিভাইটিস বা চোখ ওঠা সমস্যার উপশম করে

–   ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে

–   পানির সাথে মিশিয়ে মাউথ ওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়

দেখলেন তো কী দারুণ সব কাজে ব্যবহার করা যায় টি-ট্রি অয়েল! আপনি নিজেও দৈনন্দিন এসব টুকটাক সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করে দেখতে পারেন টি-ট্রি অয়েল। নিঃসন্দেহে উপকার পাবেন।